বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২২ পূর্বাহ্ন
ভয়েস নিউজ ডেস্ক:
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কিত ভূখণ্ডকে নিজেদের মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপালের সরকার। বিতর্কিত ভূখণ্ড কালাপানি, লিপুলেখ ও লিমপিয়াধুরাকে ভারত নিজেদের বলে দাবি করে আসছে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনটি এলাকা অন্তর্ভুক্ত করে নতুন মানচিত্রের অনুমোদন দিয়েছে। শিগগিরই ম্যাপ প্রকাশ করা হবে।
পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে সীমান্ত নিয়ে ভারতের সমস্যা চিরন্তন। এই তালিকায় নতুন করে যুক্ত হলো প্রতিবেশী নেপাল।
ভারতের ‘দখলে থাকা’ কালাপানি, লিপুলেখ ও লিমপিয়াধুরা অঞ্চলকে ফেরানোর দাবি জানিয়ে নেপালের সংসদে একটি প্রস্তাব পেশ করেছে দেশটির ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি।
নতুন মানচিত্রের কথা ঘোষণা করেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ গিয়াওয়ালি। তিনি জানান, নতুন মানচিত্র শিগগিরই জনসমক্ষে প্রকাশ করবে ভূমি মন্ত্রণালয়।
ভারতের দিক থেকে নেয়া সাম্প্রতিক তিনটি পদক্ষেপ নেপাল সরকারের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- মানস সরোবর পর্যন্ত তীর্থযাত্রা আরও সুগম করতে উত্তরাখন্ড থেকে লিপুলেখ পাস পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার লম্বা সড়ক তৈরি করছে ভারত। যেটা মোটেই ভালোভাবে নেয়নি নেপাল। সড়কটি দেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত বলে আগেই সমালোচনা করেছিল কাঠমান্ডু। পরিস্থিতি আরও জটিল করে কয়েক দিন আগে ভারত-নেপাল সীমান্তে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করার কথা জানিয়েছিল নেপাল। এরপর থেকে নেপাল-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্ক বেশ খানিকটা অবনতি হয়েছে।
এছাড়া গত বছর ভারত নতুন একটি রাজনৈতিক মানচিত্র প্রকাশ করে যেখানে এই বিতর্কিত ভূমি দু’টি তাদের অংশে অন্তর্ভুক্ত হিসেবে দেখানো হয়।
নেপাল ও ভারতের মধ্যে ১৬ হাজার কিলোমিটারের বেশি খোলা সীমান্ত রয়েছে। তার মধ্যে বেশ কয়েকটি জায়গা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।
নেপাল সরকার জানিয়েছে, নতুন মানচিত্র প্রকাশের পর প্রতিবেশী দেশের সঙ্গেও কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা করা হবে। ভারত ও নেপাল দুই দেশই দাবি করে এই কালাপানি তাদের ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত। নেপালের দাবি, এই এলাকা তাদের দেশের ধারচুলা জেলার মধ্যে পড়ে, অন্যদিকে ভারতের পাল্টা দাবি, কালাপানি উত্তরাখন্ডের পিথরগড় জেলার অন্তর্গত।
এদিকে নেপালের এমন দাবি নাকচ করে দিয়েছে ভারত। নেপালের মানচিত্র পরিবর্তনকে চীনের চাপ হিসেবে দেখছে ভারতের কূটনৈতিক মহল।
সূত্র: দ্য ডিপ্লোম্যাট ও কাঠমান্ডু পোস্ট/দেশরূপান্তর।
ভয়েস/জেইউ।